Posts

এ নাও হৃপিণ্ডখানা : মলয় রায়চৌধুরীর প্রেমের কবিতা

Image
  এ-নাও হৃৎপিণ্ডখানা উৎসর্গ : তোমাকে ‘নচ্ছার হৃদয়হীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করেছিলে সকলকে শুনিয়ে প্রতিদানে আজ পাঠাচ্ছি হৃৎপিণ্ডখানা  কাচের স্বচ্ছ জারে,চুবিয়ে ফরম্যালিনে,  ধুয়েপুঁছে একেবারে পরিষ্কার করা, রক্ত লেগে নেই, কেবল স্পন্দন আছে আর জীবন্ত কাঁপন, প্রতিবার তোমার নাম নিয়ে আলোকিত হবে হৃৎপিণ্ড আমার ;  প্রতিটি স্পন্দন তোমার মুখশ্রীকে প্রতিমার জ্যোতি দেবে, হাতে নিয়ে দেখো, বিছানার পাশে টেবিলে রেখে দেখো, বেডল্যাম্প দরকার হবে না, এমনকী তোমার পাশে যে পুরুষ শুয়ে সেও শুনতে পাবে না আমার হৃৎপিণ্ডের ডাক অবিরাম অবিরাম তোমাকে না-পাবার কষ্ট জারের লেবেলে লেখা আছে যে-নাম আমার দেয়া সেই দীর্ঘশ্বাসে স্পন্দিত হবে ক্ষণে-ক্ষণে বহুবার ওই কাটা রক্তহীন নচ্ছার বিশ্বাসঘাতক হৃৎপিণ্ডকে পারলে ভালোবেসো

টর্চার

  টর্চার মলয় রায়চৌধুরী “এটা সত্যকথা বলার ঘর এই ঘরে সবাই সত্য কথা বলে সত্যকথা’র সংজ্ঞা আমাদের তৈরি সত্য ওগরাতে হয় না ওগরানো পর্যন্ত কোনো কথাই সত্য নয়”

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানবিরোধী কবি হাবিব জালিব-এর কবিতা --- অনুবাদ মলয় রায়চৌধুরী

Image
  পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানবিরোধী কবি হাবিব জালিব-এর কবিতা ( পাকিস্তানের প্রত্যেকটি সরকার ওনাকে কবিতা লেখার দায়ে জেলে পুরেছিল ) মিলিটারি বুটজুতোর সরকার ডাকাতটা যদি না পেতো গ্রামের পাহারাদারকে তার দোসর আমাদের পায়ে শেকলের বেড়ি পরানো থাকতো না আমাদের বিজয়কে মনে হতো না পরাজয় গলায় পাগড়ি জড়িয়ে শোক প্রকাশ করতে হতো না পেটের হামাগুড়ি দিয়ে, হুকুম তামিল করতে হতো না একবার যদি মিলিটারি বুটজুতোর সরকার চেপে বসে তাহলে তাকে বিদায় জানানো অসম্ভব

মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা আবৃত্তি করছেন বাংলাদেশের শিল্পীরা

Image
 

Uighur Poetry of Osmanjan Muhemmed Pas-an translated by Malay Roychoudhury

Image
  উইঘুর কবি ওসমানজান মুহেম্মেদ পাসআন-এর কবিতা ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী ঠিক সেই মুহূর্তেও  আমি এক অন্ধের চোখবন্ধু ছিলুম আর তোমাদের দলে গিয়েছিলুম তোমরা নিশ্চয়ই ভেবেছিলে যে আমরা দেখতে পাই না তোমাদের কয়েকজন বলেছিল যে আমাদের ঈশ্বরের বাড়ি দেখাবে, তারপর তাড়িয়ে নিয়ে গেলে অট্টালিকায় যা কয়েক শতক পরে গড়ছো আমরা গা করিনি তোমাদের কয়েকজন আরেবার চিন্তা না করেই বলল যে তোমাদের রোজনামচা আর স্ত্রীরা তোমাদের পবিত্র রীতিনীতি আমরা গা করিনি তোমাদের কয়েকজন ভালোবাসার কথা বলা দাবি করেছিল আর তোমাদের শরীরের গিঁটগুলো একত্র করেছিল আর আমাদের ওপরে ফুলের ঝাড় পুঁতে সেখানেই গজিয়ে উঠতে দিয়েছিল আমরা গা করিনি বলেছিলুম, “এই ভাবেই আমাদের লেখালিখি হয়”, তোমরা টেবিলের ওপরে বই রাখলে আর আমাদের নিয়ে গেলে তার মধ্যে আমরা দুই অন্ধ দেখলুম, কিন্তু দোমড়ানো হলুদ দেয়ালে ছবি ঝুলছিল পয়গম্বররা ছবিতে জল খুঁজছেন পাহাড়চূড়ায় দেবদূতের দল, স্বর্গকে হাত দিয়ে ধরে রেখেছে পোড়া নীড়ে প্রেমে চুমুক দিচ্ছে ফর্সা তরুণীরা মাছেরা আকাশে রূপান্তরিত হবার জন্যে তৈরি যে যাজকদের মদ খাবার তেষ্টা সমুদ্র থেকে আসে কেউই সেখানে ছিল না আমরা গা করিন...

উইঘুর কবি আবদুকাদির জালালিদিন-এর কবিতা --- অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী

Image
  উইঘুর কবি আবদুকাদির জালালিদিন এর কবিতা বাড়ি ফেরার আর কোনও পথ নেই অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী এই ভুলে-যাওয়া জায়গায় আমার জন্য প্রেমিকার ছোঁয়া নেই কালো স্বপ্ন নিয়ে আসে প্রতিটি রাত, আমার তাবিজও নেই প্রশ্ন করার জন্য রয়েছে কেবল আমার জীবন, অন্য পিপাসা নেই এই নিঃশব্দ ভাবনাগুলো কষ্ট দেয়, আশা জাগাবার মতো কিছু আমার নেই এক কালে আমি কে ছিলুম, আমি কী হয়েছি, আমি জানতে পারি না আমার মনের কথাগুলো কাকেই বা বলি, আমি বলতে পারবো না আমার প্রেমিকা, আমি আঁচ করতে পারি না অদৃষ্টের মেজাজ তোমার কাছে যাবার খুব ইচ্ছে করে, আমার নড়াচড়ার শক্তি নেই ঋতুদের পরিবর্তন আমি দেখেছি ফাঁকফোকর দিয়ে তোমার সংবাদের জন্য আমি মিছেই কুঁড়ি আর ফুলের দিকে চেয়ে থেকেছি আমার হাড়ের মজ্জাতেও তোমার সঙ্গে মিলনের আকাঙ্খার যন্ত্রণা কোন পথ আমাকে এখানে এনে ফেলেছে, কেন বাড়ি ফিরে যাবার পথ আমার নেই

উইঘুর কবি এখমেতজান ওসমান-এর কবিতা -- অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী

Image
  উইঘুর কবি এখমেতজান ওসমান-এর কবিতা অনুবাদ : মলয় রায়চৌধুরী     পাঁচ অনাথ সন্তানের খোঁজে সাদির ১ সবাই জানে আমার নাম সাদির কিন্তু সরকারি দপতরে আমার নথি আছে । আমার নথিপত্র পড়ো তাহলে জানতে পারবে, আমার পাঁচ সন্তান এখন অনাথ । ঈশ্বরের তালুর ওপরে আমাদের দেশ ভেঙে চুরমার । সেই পবিত্র ধুলো থেকে জেগে উঠেছে সাদির । ২ --ঝুঁকে পড়ো…! সাদির হাঁটু গেড়ে বসল,  কপাল ছোঁয়ালো ধুলোতে । মাথা ওপরে তুলতেই ঈশ্বর গায়েব,  বিদ্যুৎ চমকালো স্বর্গের সিংহাসন কেঁপে উঠলো । দেবদূতরা উড়তে লাগলো ওর চারিপাশে । ওর পায়ে এসে পড়লো রশ্মিরেখা, এক মুহূর্তের জন্য ও চোখ বুজলো । ৩ ওহে চোখ খোলো… জিবরিল অভিনন্দন জানালো ওকে সাদির ঝুঁকলো খানিক, নিজের হৃদয়ে হাত রাখলো । জিবরিল একটা রামধনু খুলে উড়িয়ে দিলো আর সাদির তার ওপরে উঠে দাঁড়ালো জিবরিলকে ধন্যবাদ দিলো । ৪ রামধনু থেকে ও পড়ে গেল হাজার বুদ্ধের গুহায় বহুকাল আগেই  লোপাট হয়ে গেছে কাফেলাগুলো । বুদ্ধ গুহাগুলো… পড়ে যাওয়া হাজার ঘণ্টা এখনও বেজে চলেছে । ৫ ঝিমন্ত ঘাড় নেড়ে ও গোধূলির ওপরে মাথা রাখলো । পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল প্রজাপতি, মুহূর্তের জন্য ওর চোখের পাতায় বসলো । ...